Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

Senior Upazila Fisheries Office, Golapganj, Sylhet.

   

      বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে মৎস্য সম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪.৪৮% এবং কৃষি উৎপাদনের প্রায় ২৩% আসে মৎস্য উপখাত হতে।  দেশের অভ্যন্তরীন জলাশয়ের জলমহালগুলি মৎস্যজীবীদের মাঝে ইজারা প্রদান করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সম্পদশালী ধনীরাই জলমহালগুলি ইজারা নেয় এবং দেশের অধিকাংশ জেলেদের নৌকা ও জাল না থাকায় নিম্ন মুজুরীতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকে অথবা উচ্চ মূল্যে জাল ও নৌকা ভাড়া নিয়ে দূযোগপূর্ণ আবহাওয়াতেও মৎস্য আহরণ করে, ফলে প্রায়শ:ই অনেক জেলে মারাত্বক দূর্ঘটনার শিকার হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবার পরিজন মানবেতর জীবন-যাপন করে থাকে।

       দেশের প্রকৃত জেলেদের কোন নিবন্ধিত তালিকা নেই এবং এই তালিকা না থাকায় প্রায়:ই তাদের জীবনমান উন্নয়ন কাযক্রম ব্যহৃত হচ্ছে। প্রকৃত জেলেদের তালিকা বা স্বীকৃতি না থাকায় অনেক সময়ই জেলেদের নাম ব্যবহার করে অমৎস্যজীবীগণ বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে থাকে। ফলে প্রকৃত জেলেগণ তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। সে প্রেক্ষিতে জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন, মৎস্য উপখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়নের নিমিত্ত প্রকৃত জেলেদের সনাক্তকরণ অত্যন্ত জরুরী।

       হাওর, নদী, খাল, বিল, প্লাবনভূমি অধ্যূষিত গোলাপগঞ্জ উপজেলা মৎস্য সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উপযুক্ত জায়গায় যথাযথভাবে মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন করা হলে একদিকে যেমন দেশীয় প্রজাতির নদীর মাছ এর উৎপাদন বৃ্দ্ধি পাবে, অন্যদিকে বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতিও সংরক্ষিত হবে। এছাড়া সুরমা, কুশিয়ারা, কুড়ানদীর অধ্যুষিত এলাকায় মৎস্যজীবীদের ঘন বসতি রয়েছে। তাই এসব এলাকায় খাচায় মাছের চাষ প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা হলে মৎস্যজীবীদের জন্য কর্মসংস্থান হবে এবং তাদের আর্থ- সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

  

      অত্র উপজেলায় রয়েছে সুসজ্জিত বানিজ্যিক মৎস্য খামার,যেখান হতে নিবিড় মৎস্য চাষের মাধ্যমে অধিক পরিমাণে মাছ উৎপাদিত হয়ে থাকে। বর্তমানে উন্মুক্ত ও বদ্ধ জলাশয়ের মাছসহ চাষের মাছে চাহিদার তুলনায় ২০৪.৯৯ মেট্রিক টন মাছ উদ্বৃত্ত রয়েছে। সকল মৎস্য সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা হলে উদ্বৃত্ত মাছের পরিমাণ অনেকগুণ বৃ্দ্ধি করা যাবে ।

ছবি